Wednesday, November 27, 2019

সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০১৯ এর খসড়া অনুমোদন

সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০১৯ এর প্রস্তাবিত খসড়া সংশোধন সাপেক্ষে ক্যাটাগরি অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ আ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বুধবার (২৭ নভেম্বর) কমিশনের ৭০৮ তম কমিশন সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ রুলস, ১৯৮৭ সংশোধন পূর্বক প্রস্তাবিত সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০১৯ শিরোনামে প্রস্তুতকৃত খসড়া কতিপয় সংশোধন সাপেক্ষে কমিশন অনুমোদন করেছে। যা জনমত জরিপের জন্য শীঘ্রই দৈনিক পত্রিকা ও বিএসইসির ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হবে।

শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সদ্য বিডিবিএলের'র ব্যবস্থাপক পরিচালক ও সিইও জনাব কাজী আলমগীর স্যার-কে। শুভেচ্ছান্তে -- বিডিবিএল ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিসেস'র পরিবারবর্গ।


Sunday, November 24, 2019

১৮ কোম্পানির সোমবার লেনদেন বন্ধ

পুঁজিবাজারে তালিকাভু্ক্ত ১৮ কোম্পানির সোমবার লেনদেন বন্ধ রাখবে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কোম্পানিগুলো হচ্ছে- সোনারগাঁও টেক্সটাইল, উসমানিয়া গ্লাস শীট, অ্যারামিট সিমেন্ট, গোল্ডেন সন, বিডি থাই, সমতা লেদার, সাইনপুকুর সিরামিক, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, ইমাম বাটন, বেক্সিমকো সিনথেটিক, সেন্ট্রাল ফার্মা, প্রাইম টেক্সটাইল, এসকে ট্রিমস, বেক্সিমকো ফার্মা, বেক্সিমকো লিমিটেড, শেফার্ড, আফতাব অটোমোবাইল এবং নাভানা সিএনজি।
জানা গেছে, সোমবার এসব কোম্পানির বার্ষিক সাধারন সভা (এজিএম) সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট। এ কারণে লেনদেন স্থগিত রাখবে কোম্পানিগুলো। মঙ্গলবার এসব কোম্পানির লেনদেন স্বাভাবিক নিয়মে চলবে।

আর্থিক খাতের নিট মুনাফা কমেছে ৭৬ শতাংশ

অনিয়ম, দুর্নীতি ও খেলাপি ঋণ সংকটে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে দেশের ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো (এনবিএফআই)। নিট সুদ আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি পুঁজিবাজারে লোকসান ও খেলাপি ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণের পরিমাণ বাড়ায় মুনাফায় বড় রকমের ধাক্কা খেয়েছে এনবিএফআই খাত। চলতি হিসাব বছরের নয় মাসে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ২৩ এনবিএফআই প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত নিট মুনাফা কমে গেছে ৭৬ শতাংশ। এর মধ্যে ছয় এনবিএফআই প্রতিষ্ঠান পড়েছে লোকসানে। এ খাতটির কোম্পানি পিপলস লিজিং অ্যান্ড সার্ভিসেস অবসায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, আর্থিক খাতে নানা ধরনের সংকটের মধ্যেও চলতি হিসাব বছরের নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) এনবিএফআই খাতের ঋণ বিতরণের পরিমাণ বেড়েছে। এ সময় এনবিএফআই খাতের মোট ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল ৫৪ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি। ঋণ বিতরণ বাড়ায় খাতটির সুদ আয়ও বেড়েছে। আবার আমানতের পরিমাণ কিছুটা কমলেও সুদ বাবদ খরচ বেড়েছে। এর ফলে নিট সুদ আয় কমে গেছে।
মূলত পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের অবসায়নের কারণে পুরো এনবিএফআই খাতের ওপর আমানতকারীদের আস্থাহীনতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। আমানত প্রত্যাহারের চাপে তারল্য সংকটের মধ্যে পড়েছে খাতটির অধিকাংশ কোম্পানি। এমন পরিস্থিতিতে উচ্চ সুদে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে আমানত নিতে হয়েছে খাতটির কোম্পানিগুলোকে, যা তাদের সুদ ব্যয় বাড়িয়ে তুলেছে।
চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত এনবিএফআই খাতের সুদ আয় হয়েছে ৫ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ৮ শতাংশ বেশি। এ সময় বিভিন্ন ধরনের আমানতের বিপরীতে এনবিএফআই খাতের সুদ বাবদ ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় সাড়ে ১২ শতাংশ বেশি। এর ফলে চলতি তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত খাতটির নিট সুদ আয় কমেছে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ। এ সময় নিট সুদ আয় হয়েছে ৬৮৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭৮৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
২০১৮ সালের ধারাবাহিকতায় চলতি বছরও পুঁজিবাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে এনবিএফআই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ করে বড় অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়েছে। এ লোকসানের কারণে সঞ্চিতি সংরক্ষণের পরিমাণও বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে খাতটির বিনিয়োগের পরিমাণও কমেছে।
চলতি বছরের নয় মাসে এনবিএফআই খাতের বিনিয়োগের পরিমাণ হচ্ছে ১৩ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ২৭৭ কোটি টাকা কম। পুঁজিবাজারে মন্দার কারণে বিনিয়োগ থেকে খাতটির আয়ও আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত বিনিয়োগ থেকে খাতটির আয় হয়েছে ৫৫৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম। এ সময় কমিশন, এক্সচেঞ্জ ও ব্রোকারেজ থেকেও আয় কমেছে ১৫ শতাংশ। এর ফলে পুরো খাতটির পরিচালন আয় কমেছে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে এনবিএফআই খাতের পরিচালন আয় হয়েছে ১ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ হাজার ১৩ কোটি টাকা।
এদিকে পরিচালন আয় কমলেও ব্যয় বেড়েছে সাড়ে ৭ শতাংশ। আবার পুঁজিবাজারে লোকসান ও খেলাপি ঋণের কারণে খাতটির সঞ্চিতি সংরক্ষণের পরিমাণও বেড়েছে। চলতি বছরের নয় মাসে এনবিএফআই খাতের সঞ্চিতি সংরক্ষণের পরিমাণ ছিল ৩১৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের নয় মাসে এনবিএফআই খাতের নিট মুনাফা হয়েছে ১৩৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫৭২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে খাতটির নিট মুনাফা কমেছে ৭৬ শতাংশ।
চলতি এনবিএফআই খাতের মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড। পুঁজিবাজার মন্দার কারণে এ কোম্পানির সাবসিডিয়ারিগুলো ভালো ব্যবসা করতে পারেনি। এতে তাদের আয় কিছুটা কমলেও এনবিএফআই খাতের মধ্যে নিট মুনাফায় শীর্ষে রয়েছে। চলতি বছরের নয় মাসে আইডিএলসি ফাইন্যান্স ১৩০ কোটি ৮০ লাখ টাকা নিট মুনাফা করেছে। নিট মুনাফার হিসেবে পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে উত্তরা ফাইন্যান্স ও ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং লিমিটেড। এ দুই কোম্পানির নিট মুনাফা ছিল যথাক্রমে ১০৪ কোটি ও ৮২ কোটি টাকা।
অবশ্য প্রবৃদ্ধির বিচারে নিট মুনাফায় সবচেয়ে বেশি এগিয়ে বে-লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। আগের বছরের তুলনায় এ কোম্পানির নিট মুনাফা বেড়েছে ২২৩ শতাংশ। আগের বছর কোম্পানিটি লোকসানে ছিল। একইভাবে আগের বছরের লোকসান কাটিয়ে চলতি বছর মুনাফায় ফিরেছে প্রিমিয়ার লিজিং ও প্রাইম ফাইন্যান্স। লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের মুনাফাও শতভাগ বেড়েছে। এর বাইরে আইপিডিসি, ইসলামিক ফাইন্যান্স ও বিআইএফসির মুনাফাও বেড়েছে।
চলতি বছরের নয় মাসে এনবিএফআই খাতের ছয় প্রতিষ্ঠান লোকসানে রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- বিআইএফসি, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), ইউনিয়ন ক্যাপিটাল ও মাইডাস ফাইন্যান্স। এছাড়া মুনাফা কমেছে ফিনিক্স ফাইন্যান্স, ইউনাইটেড ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স, বিডি ফাইন্যান্স ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের।
এনবিএফআই খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে বিআইএফসির। এ কোম্পানির বিতরণকৃত ঋণের ৯৭ শতাংশই খেলাপি। আইসিবির বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৩০ শতাংশ খেলাপি। এর বাইরে প্রিমিয়ার লিজিং, প্রাইম ফাইন্যান্স, মাইডাস ও এফএএস ফাইন্যান্সের উল্লেখযোগ্য পরিমাণের ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে।

Saturday, November 23, 2019

রকেট গতিতে এগোচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি!

২০২০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশে গিয়ে পৌঁছাবে। এশিয়ার অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত গতিতে অগ্রসর হচ্ছে।
সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম এমনই চিত্র উপস্থাপন করেছে তাদের এক ব্লগপোস্টে। সামগ্রিক বিচারে মনে হতেই পারে রকেট গতিতে এগোচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি।
এতে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে যখন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাবার পর খুবই দরিদ্র অবস্থায় ছিল বাংলাদেশ। দেশটিতে জিডিপির অবস্থা তেমন ভালো ছিলো না ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছিল। এছাড়া বন্যা ও খরা লেগেই ছিল।
কিন্তু গত কয়েক বছরে দেশটিতে অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। এশিয়ান ডেভেলমেন্ট ব্যাংক এর হিসেবে বাংলাদেশের বর্তমান প্রবৃদ্ধি হার ৮ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশ থেকে এগিয়ে।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বলছে, ২০২০ সালে বাংলাদেশের পর ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ভারত দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় স্থানে থাকবে। ৬ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকবে মালদ্বীপ ও নেপাল।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পুর্বাভাস
জনসংখ্যা বিস্ফোরণের হার কমে যাওয়ায় মাথাপিছু আয় বেড়েছে। ২০১০ সালে দেশটিতে দারিদ্রসীমার নিচে বাস করা শ্রমিকদের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু ২০১৮ সালে হ্রাস পেয়ে ১০ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসে।
১৯৭৫ সালে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে জাতিসংঘ। সেখান থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ২০২৪ সাল নাগাদ এর উত্তরণ সম্পন্ন হবে।
উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার এই যোগ্যতা অর্জনের মানে হচ্ছে দেশের মোট জাতীয় আয়ের সঙ্গে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বেড়েছে।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের 'দ্য গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেস রিপোর্ট'- বাংলাদেশকে ১০৫তম স্থানে রাখা হয়। এই তালিকায় দেশগুলো যত সামনে থাকবে, ততই জীবন মানের উন্নতি দেখা যাবে।
১৯৭০ সালে শুরু হওয়া বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের বর্তমান আকার ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আইটি সেক্টরে দেশটি অনেক উন্নত হয়েছে। প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের প্রযুক্তি পণ্য প্রতি বছর রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে। ২০২১ সালে এর পরিমাণ দাঁড়াবে ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশটিতে ৬ লাখ ফ্রিল্যান্সার রয়েছে।
এছাড়া স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিশু মৃত্যু হ্রাসে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন করেছে বলে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

Thursday, November 21, 2019

‘দুর্বল’ আইসিবির পাশাপাশি আসছে নতুন বাজারশক্তি::বিডিবিএলকে বিনিয়োগ ব্যাংকে রূপান্তরের পরিকল্পনা

পুঁজিবাজার উন্নয়নে ‘মার্কেট মেকারের’ ভূমিকায় ১৯৭৬ সাল থেকে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) একচ্ছত্রভাবে কাজ করছে। এবার আইসিবির পাশাপাশি একই ভূমিকায় কাজ করবে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল)। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আইসিবি যেসব সুযোগ-সুবিধা পায়, রাষ্ট্রায়ত্ত বিডিবিএল তাও পাবে। প্রাথমিকভাবে এটিকে ইনভেস্টমেন্ট বা বিনিয়োগ ব্যাংক হিসেবে
কার্যক্রম পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এরই মধ্যে বিডিবিএলকে পুঁজিবাজার নিয়ে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে কাজও শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
মূলত পুঁজিবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার না করা এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আইসিবির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরিপ্রক্ষিতে বিডিবিএলকে পুঁজিবাজারের আরেক শক্তি হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে।
এ ছাড়া পুঁজিবাজার উন্নয়নে একগুচ্ছ পরিকল্পনাও নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এসব বিষয়ের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে—এমনটি আমরা দীর্ঘদিন ধরেই শুনছি। আইসিবির পাশাপাশি পুঁজিবাজারে সহায়তা দেওয়ার জন্য এ রকম একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা খুবই ইতিবাচক।’ বাজার স্থিতিশীলতায় বিডিবিএল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ ব্যাপারে বিডিবিএলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মতিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিডিবিএলের পুঁজিবাজারে আসার ব্যাপারে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আইসিবির সঙ্গে কেউ যদি পুঁজিবাজারে সাপোর্ট দেয় তাহলে মার্কেট চাঙ্গা হতে বাধ্য। কারণ, আগে আইসিবি একা মার্কেটে কাজ করত। এতে অনেক সমস্যা হতো। এখন বিডিবিএল এলে ভালো হবে। এটি ইতিবাচক। এখন টিম ওয়ার্কের মতো হবে।’
পুঁজিবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্কিমের টাকা যথাযথভাবে ব্যবহার না করা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নের ব্যাপারে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের তদন্তের যথাযথ জবাব দিয়েছি। বন্ডের ৭৫ শতাংশ টাকা বিনিয়োগের কথা থাকলেও আমরা ৯০ শতাংশ টাকা বিনিয়োগ করেছি। আমাদের কার্যক্রমে কোনো অস্বচ্ছতা নেই।’
সূত্র মতে, ১৯৯৬ সালের পর ২০১০ সালে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা বড় ক্ষতির সম্মুখীন হন। পথে বসেন অনেকেই। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত স্থিতিশীল হয়নি দেশের পুঁজিবাজার। পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতায় আইসিবিকে দফায় দফায় টাকা দিয়েছে সরকার। চলতি বছর আইসিবির অনুকূলে দুই হাজার কোটি টাকার বন্ড ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা স্কিমের টাকা থেকে ৮৫৬ কোটি টাকা ছাড় করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু এসব টাকা যথাযথভাবে ব্যবহার না করার অভিযোগ রয়েছে। আবার আইসিবির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সভায় এ প্রশ্ন তুলেছেন খোদ বিএসইসির চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন।
গত ৪৩ বছরে আইসিবির অর্জন যেমন অনেক। ঠিক তেমনি ব্যর্থতা এবং অভিযোগের তালিকাও অনেক লম্বা। এসব বিবেচনায় নিয়ে বিডিবিএলকে সামনে আনা হচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বাড়ানোর মাধ্যমে বিনিয়োগ চাহিদা বাড়ানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বেশ কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সুপারিশ হলো—পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাজার সৃষ্টিকারী সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা। এতে পুঁজিবাজারে অস্বাভাবিক উত্থান-পতন হ্রাস পাবে। অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের সুপারিশে বলেছে, পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য বিডিবিএলকে ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম শুরু করাতে পারলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিষয়টিতে একমত পোষণ করেছেন অর্থমন্ত্রী। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী অংশীজনদের সঙ্গে শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একটি সভা করেন। সেখানে বিভিন্ন অংশীজনরাও এ প্রস্তাব করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বৈঠকেই বলেন, আইসিবি যেখানে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবে সেখানে বিডিবিএল দায়িত্ব পালন করবে। মূলত এর পর থেকেই বিডিবিএলকে বিনিয়োগ ব্যাংকে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
ওই সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে, বিএসইসির চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন বলেছেন, পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ২০ শতাংশ। এটি যুক্তিসংগত নয়। আইসিবি ও বিডিবিএলকে সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে অনুরোধ করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. ফজলে কবির এ পরিপ্রেক্ষিতে সভায় ঘোষণা দেন, এখন থেকে আইসিবি ও বিডিবিএলের জন্য সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার (একক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ঋণ পাওয়ার সর্বোচ্চ সীমা) ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কিভাবে বিডিবিএলকে বিনিয়োগ ব্যাংকে রূপান্তরিত করা যায় তা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। আর এ ক্ষেত্রে প্রথমেই ব্যাংকটির ‘আর্টিক্যাল অব ম্যামোরেন্ডাম’ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ‘বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক’ এবং ‘বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থাকে’ একীভূত করে ২০০৯ সালে বিডিবিএল প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই একীভূতকরণের সময় কী কী বিষয় উল্লেখ ছিল তাও দেখছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ ছাড়াও রয়েছে অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ। আর এসব করতে গিয়ে বিনিয়োগ ব্যাংক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ আইসিবির সমালোচনা করে বলেন, ‘আইসিবি এখন বিরাট আকার ধারণ করেছে। খরচ হচ্ছে বেশি, লোকবল বেড়েছে। তবে কোনো কাজ হচ্ছে না। পুঁজিবাজার গঠনে যে ভূমিকা নেওয়ার কথা ছিল তাও নিতে পারছে না আইসিবি। তাই বিডিবিএলকে সামনে আনা ইতিবাচক পদক্ষেপ।’ বাজার স্থিতিশীলতায় দুই প্রতিষ্ঠান এক সঙ্গে কাজ করলে ভালো হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Wednesday, November 20, 2019

শিগগিরই ২২১ বন্ড লেনদেনযোগ্য হবে

পুঁজিবাজারে ২২১টি ট্রেজারি বন্ড আছে, সেগুলো তালিকাভুক্ত। তবে সেগুলো মার্কেটেবল না এবং লেনদেন হচ্ছে না। এগুলোকে লেনদেনযোগ্য করার জন্য কাজ চলছে। শিগগিরই ২২১টি বন্ডকে লেনদেন যোগ্য করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিড অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেন।
বুধবার গ্রীণ বন্ডের পরিচিতি শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে বিএসইসির চেয়ারম্যান এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসইসির পরিচালক মো. রেজাউল করিম।
এম খায়রুল হোসেন বলেন, আমাদের বন্ড মার্কেট একেবারেই ডেভেলপ নয়। বাংলাদেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। আমাদের ৮ দশমিক ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির হার। তবে এই প্রবৃদ্ধির হারর স্থায়ী হবে না, যদি গ্রীন বন্ড মার্কেট উন্নয়ন না করি। কমিশন বন্ড মার্কেট উন্নয়নে একটি আইন করেছে।
আমাদের বিনিয়াগকারীরা শিক্ষিত না হওয়ায় বারবার পুঁজি হারায়, আর দায়ভার দেয় কমিশনকে এমন উক্তি করে তিনি বলে, আমরা তাদের জন্য ফিক্সড ইনকাম নির্ভর বন্ড ও অন্যান্য বিষয়গুলো চালু করতে পারি। এর ফলে তারা নির্দিষ্ট হারে রিটার্ন পাবে।
ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিয়ে উন্নয়নের কাজে লাগানো হচ্ছে। অথচ ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন করার কথা না। যে কারণে বর্তমানে ব্যাংকগুলোর অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। এছাড়া ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে সুদ ও আসল না দেয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
কমিশন নতুন একটি প্রাইভেট প্লেসমেন্ট এবং পাবলিক ইস্যু বন্ড মার্কেট রুলস প্রণয়নের জন্য কাজ করছে উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, বন্ড মার্কেট কেনো উন্নত হচ্ছে না, তার কারণগুলো চিহ্নিত করে সরকারকে ইতিমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেটের মহাপরিচালক মাহবুবে আলমসহ অন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০১৯ এর খসড়া অনুমোদন

সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০১৯ এর প্রস্তাবিত খসড়া সংশোধন সাপেক্ষে ক্যাটাগরি অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ আ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ...